অলৌকিক ঘটনা - ১৩
বাবে রহমতের অনুষ্ঠান আমি দেখেছি বা উপভোগ করেছি যশোর খানকাহ শরীফে আশেকে রাসূলগনের সাথে লাইভে। আর বাবে মদিনার অনুষ্ঠানের বক্তা গনের বক্তৃতা শুনেছি (অমর বানী) আইডি থেকে ফেসবুকে। এই দুই অনুষ্ঠানে যারা বক্তব্য রেখেছেন তারা সবাই তরিকা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমার থেকে জুনিয়র, আর এলেম কালামে তারা সবাই আমার থেকে অনেক উর্ধ্বে। তবে সবার সাথে আমি কমবেশি মাহফিল করেছি, তাদের বক্তৃতা শুনেছি। দরবারেও বড় বড় অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্য শুনেছি। এক সময় আমরা সবাই দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের ওলামা মিশনের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলাম।
সাইদুর রহমান সাব দরবার থেকে বের হয়ে মীরপুর দরবার করার পর, বিশেষ করে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের ওফাত লাভের পর থেকে বেশ কয়েকজন আলেমের গতিবিধি ভিন্ন রকম দেখেছি বা শুনেছি। এবার বাবে মদিনার অনুষ্ঠানে তারা দয়াল মেজো হুজুরের সরলতাকে পুঁজি করে আমাদেরকে তুলোধোনার মতো ধুনে ফেললেন। বাবে রহমতের বক্তাগন আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন,যেভাবে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান আমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সেই ভাবে। যেমন আশুরা শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান নয়,শুধু কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়। এ অনুষ্ঠান আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান। এদিনে অনেক অনেক ঘটনা ঘটেছে, এ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাবে রহমতের বক্তাগন।
আর বাবে মদিনার বক্তাগন কারবালার ঘটনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যের মধ্যে একটি বিষয় ফুটে উঠেছে, আর তা হলোঃ- যারা সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের পবিত্র অসিয়ত মোতাবেক মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদান কারী মহামানব ইমাম প্রফেসর ডক্টর কুদরত এ খোদা (মাঃ আঃ) হুজুরকে অনুসরণ করে, তারা এজিদের অনুসারী (নাউজুবিল্লাহ)। একজনতো উপস্থিত সবাইকে নিয়ে খুব জোরেশোরে শ্লোগান দিলেন, ইমাম হোসাইন আছে যেখানে, আমরা আছি সেখানে। বাবা দেওয়ানবাগী আছেন যেখানে, আমরা আছি সেখানে। বাবে মদিনা আছে যেখানে, আমরা আছি সেখানে। এজিদ আছে যেখানে, আমরা নাই সেখানে। এই বক্তা সাবকে ইতিপূর্বে কোন আশুরার অনুষ্ঠানে এই ধরনের শ্লোগান দিতে দেখি নাই
এর পূর্বে বক্তা সাব বললেন, ইমাম হোসাইনের দলে ছিল ৭২ জন আর এজিদের দলে ছিল ২২ হাজার, এই ৭২ জনের দাম বেশি, না! ২২ হাজারের দাম বেশি? আপনারা কি ৭২ জনের দলে থাকতে চান, না!২২ হাজারের দলে থাকতে চান? আসলে এই বক্তা সাব কেন যে বুঝতে চাচ্ছেন না, কারবালায় ৭২ জন ছিলেন,সিরাজামমুনিরার ধারক ও বাহক ইমাম হোসাইনের (রাঃ)'র দলে, আর ২২ হাজার ছিল, ওয়াদা খেলাফ কারী মুয়াবিয়ার পুত্র এজিদের দলে। আর বর্তমানে তিন কোটির মধ্যে ৯৯% ভাগ আশেকে রাসুল ভাই ও বোনেরা আছেন সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের পবিত্র অসিয়ত অনুযায়ী সিরাজামমুনিরার ধারক ও বাহক দয়াল কুদরত এ খোদা (মাঃ আঃ) দয়াল মেজো হুজুরের দলে। আর ০১% ভাগ আছে মেরুদণ্ডহীন ওয়াদা খেলাফ কারী ও ফেতনা সৃষ্টি কারীদের দলে। এই বক্তা সাব কি শোনেন নাই, সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান মাঝে মাঝে বলতেন, আমার মোর্শেদের দরবারে যা ঘটছে, আমার দরবারে তা ঘটতে দেবো না। আমি আর দ্বিতীয় কারবালা ঘটাতে চাই না। আর শেষ মুহূর্তে বলে গেলেন আমার সাজানো বাগান জলে ভেসে যেতে দেবো না। অর্থাৎ আমি আমার কদরকে সামনে দিয়ে আমি তাঁর ভীতরে আছি থাকবো
আর এক বক্তা বললেন, নদীতে জাল ফেললে জালে মাছের সাথে পোকা-মাকড় উঠে। পোকা-মাকড় যায় পোকা-মাকড়ের ঠিকানায় । মাছ গুলি আসে পাত্রে, অর্থাৎ বাবে মদিনায়। দারুন ভাবে ৯৯% ভাগ আশেকে রাসুল ভাই ও বোনদেরকে পোকা-মাকড় বানিয়ে দিলেন
আর একজন বক্তা বললেন,দয়াল বাবাজান ওফাত লাভ করেছেন মাত্র আড়াই বছর এর মধ্যে দেওয়ানবাগ শরীফের কিছু মানুষকে শয়তানে আছর করছে,তাদের ধারণা মোর্শেদ কেবলাজান পর্দা করছেন,এখন আমাদের মোর্শেদ পরিবর্তন করতে হবে। এই বক্তার নাকের মধ্যে টিপ দিলে এখনো দুধ বের হয়। সেতো জানেই না যে,এই বাবে মদিনার আশ-পাশে দক্ষিণ কমলাপুর,আরামবাগ, বাসাবো,যাত্রাবাড়ীর কতজন জাকের ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ)' র ওফাত লাভের পর মোর্শেদ পরিবর্তন করে, সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানকে মোর্শেদ হিসেবে বরণ করে তাঁর কদম মোবারকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খোদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ) 'র প্রথম মোর্শেদের ওফাত লাভের পর তিনি আবার এনায়েতপুরী (রহঃ)' র নিকট বায়েত গ্রহণ করেন
আরও একজন বক্তা বললেন, তার মাধ্যমে গাছ নাকি সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের কাছে মুক্তি চেয়েছিল, তাই সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের পর আর কারো অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। এই বক্তাতো জানেই না যে, ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ)' র এক মুরিদ সন্তান সদরপুর থেকে পায়ে হেঁটে চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে একটু রাত হয় এবং হালকা বৃষ্টিও নামে, পথের মধ্যে বিষধর গোখরা সাপ ফোনা উঁচিয়ে ঐ জাকেরকে আটকিয়ে তার মাধ্যমে ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ)' র কদম মোবারকে মুক্তির জন্য আরজি পেশ করেছিল। এই ঘটনার পর যারা ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ)' র ওফাত লাভের পর সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের কদম মোবারকে ফের তরিকা গ্রহণ করেছিলেন,তারাতো গাছ হুজুরের দৃষ্টিতে ভূল করেছিলেন
সর্বশেষ এই বক্তা যাঁদের টাকায় চট্টগ্রাম থেকে বাবে মদিনায় বক্তব্য দিতে আসলেন, তিনি তাঁদেরকে কিভাবে তাঁদের উপস্থিতিতে গালিগালাজ করলেন, এই কথা বলে শেষ করছি। এই গাছ হুজুর তার বক্তব্যে বললেন আমরা এমন একজন মহামানবকে মোর্শেদ হিসেবে পেয়েছিলাম, পেয়েছি, সেই দেওয়ানবাগীর কাছে শুধু মানুষ নয়, গাছও মুক্তি চায়। এরপরই বললেন, বাবাজান বলেছেন, আমি এমন কাউকে বানায়ে যায়নি, যে আপনারে মুক্তির ব্যবস্থা করবে। বলছে কি বলে নাই, নাকি আমি শুনছি? আপনারা শোনেন নাই? তিনি কথা গুলি দুই বার বলে,এর সত্যতা যাচাই করলেন। বাবে মদিনায় উপস্থিত A - Z সবাই চিৎকার করে বললো শুনছি
এই গাছ হুজুর সবাইকে স্বাক্ষী রেখে মূল তিন হুজুরের মেরুদণ্ড চিরদিনের জন্য এমন ভাবে ভেঙ্গে দিলেন যে,তাঁরা আর কোন দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন না। তাঁরা শুধু নামেই ইমাম থাকবেন,কাজে কর্মেও ইমাম হতে পারবেন না, দাবীও করতে পারবেন না। তাই এখানে একটা ঘটনা যোগ করতে চাই, আর তা হলো এক মসজিদের ইমাম সাবের কলা গাছের কলার ছড়া চোরে চুরি করে নিয়ে গেছে। ইমাম সাব যেহেতু মসজিদে নামাজ পড়ান, তাই এক বকা উল্লাহকে ১০ টাকা দিয়ে বললেন, বাবা তুমি কলা চোরকে একটু গালিগালাজ করে দাও। বকা উল্লাহ উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে বলছে, এই চোরের ঘরের চোর তুই যে হুজুরের কলার ছড়া চুরি করে নিলি, ইমাম হুজুর দুধ ভাত খাবে কি গু দিয়ে। আরও একটি জিনিসের কথা বলেছিল যেটা দেখতে কলার মতো। যাইহোক হুজুর দৌড়ে এসে বললেন, বাবারে আর গালি দিওনা, যথেষ্ট হয়েছে
আমাদের এই সকল বক্তাগনের ভাগ্য ভালো যে, এখন পর্যন্ত ইমাম মাহ্দী (আঃ) এর ঔরস জাত সরলমনা সম্মানিত সাহেব জাদা হুজুরগন বুঝতে পারছেন না যে, ওদেরকে টাকা দিয়ে হায়ের করে আনি কদরকে দমানোর জন্য,ওরাতো আমাদের চাট্টিবাট্টি গোল করে দিচ্ছে। তাঁদের টাকা খেয়ে কিভাবে আবার তাঁদেরকেই ডুবাচ্ছে। আমাদের সরলমনা তিন হুজুর না বুঝলেও দয়াল কুদরত এ খোদা একদিন এদের হিসাব নিয়ে ছাড়বেন। দয়াল বাবাজান বলেছেন আমি কাউকে বানিয়ে যাইনি যে তোমাকে মুক্তি দিতে পারে, এ কথা গুলি কিভাবে আবিষ্কার হলো। যারা দরবারে সব সময় থাকেন, তারাও বলতে পারছেন না, তবে একজন একটা ধারণা দিছেন হয়তো দয়াল বাবাজান সাইদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলতে পারেন, আমি যেহেতু তোমাকে বিপদ গামী বলেছি, ফের তোমাকে মুক্তি দিতে পারে এমন কাউকে বানিয়ে যায় নাই, কারণ যে তোমাকে মুক্তি দিতে পারে তাঁকেইতো তুমি প্রধান শত্রু মনে কর। বাকীরা তো এখনও তোমার আজ্ঞাবহ, পরেও তোমারই আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে এই সকল দুনিয়াদার আলেমদের থেকে হেফাজত করুন। আমিন


0 মন্তব্যসমূহ