মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের জীবন যুদ্ধ...
নেট থেকে নামানো বাইকের ছবিটা, স্বপ্ন কেনার বাসনা বার বার নাড়া দেয় চোখে মধ্যবিত্তের জীবনের কথা।
সাহস করে বাসায় বলে ফেলা একটা বাইক কিনে দেও।বাবার শাসনমূলক না বাক্যের সাথে হাজার অভিযোগ।মধ্যবিত্তের ছেলেদের অভিমান দেখানোর মানুষগুলোও খুব কম, প্রথমত মা আর দ্বিতীয়ত ভাইবোন।ছেলেটার মন খারাপ, ওর বোন জমানো টাকা দিসে ভাইয়ের বাইক কেনার জন্য, আমার কাছে কিছু আছে, তুমি দেখোনা একটা কমের মধ্যে হলেও কিনে দেও ছেলেটারে।
মা ভাইয়াকে একটা বাইক কিনে দেও, আমি কিছু টাকা জমাইছিলাম, বাবারে তুমি বুঝিয়ে বললে শুনবে। শত ঝগড়ার মাঝেও ভাইয়ের প্রতি বোনের টান আজীবনের।
ব্যাংক থেকে জমানো টাকা তুলে ছেলের মায়ের হাতে, মায়ের চোখে মুখে ছেলের শখ পূরণের উচ্ছ্বাস। সন্তানের ইচ্ছে পূরণে বাবা-মা যে সর্বচ্চো ত্যাগী ।
আজ অফিস থেকে এসে সন্ধ্যায় বাইক কিনতে নিয়ে যাবে। পুরো পরিবারে জুড়ে আনন্দের ছোঁয়া। মধ্যবিত্ত পরিবারে একজনের সুখে সবার মুখে খুশি ছড়ায়।
পুরনো একটা বাইক নে বাপ, নতুন কিনতে গেলে ধার দেনা করতে হবে ছেলে খুশিতে আব্বু পুরনো হলেও হবে।পুরনোর মাঝেও সাধ্যদের হিসাব নিকাশ।বুকে ব্যথা নিয়ে দুপুরে হঠাৎ বাবা বাসায় ফিরে, সুখের তীরে দুঃখের ঢেউ আছড়ে পড়ে।
উচ্ছ্বাসের সেই হাসিটা বাবার ওষুধের প্রেসক্রিপশনের হারিয়ে যায় বার বার...ডাক্তার বলেছে বাবার হার্টে রিং বসাতে হবে। মা ঘরে টাকা যা আছে দেও বাইক কেনার টাকাটাও দেও। মা স্তব্ধ হয়ে রইলো, ছেলে একগাল হেসে বললো এখন বাইকের দামও বেশি পরে কিনবো মা । (কেউ কি জানে মা আর ছেলের মাঝে মাত্রই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভিনয় হয়ে গেলো )
নিজের ইচ্ছেদের খুন করা যদি পৃথিবীতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, তবে প্রতিটা মধ্যবিত্তের ছেলেরা ফাঁসির আসামী হতো।বাবার ওষুধ হাতে নিয়ে হেটে যাওয়া ছেলেটা শিখে গেছে পৃথিবী কতটা নির্মম সময়ে সময়ে। মধ্যবিত্তের ছেলেরা বয়সের ভারে দায়িত্ব নেওয়া শিখে না, ওরা দায়িত্ব শিখে নেয় সময়ের আঘাতে।মধ্যবিত্তের ছেলেরা আকাশে অভিযোগ ছুড়ে দেয়, আর নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাসে কাঁদে। সেই অভিযোগ আর দীর্ঘশ্বাসের কান্না পৃথিবীর হাজার শব্দের মাঝে কখন যে হারিয়ে যায় তা কেউ টের পায় না।শত কষ্ট মনে চাপিয়ে বাসায় ফিরে পরিবারের সাথে সুখটা ভাগাভাগি করার নামই মধ্যবিত্ত
.....................



0 মন্তব্যসমূহ