আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

ভাই বোনের ভালোবাসার গল্প

ভাই বোনের ভালোবাসা

- বাবা মারা পর বুবুরাই ছিল সম্ভল।এমনি একদিন বিকেলে যখন স্কুল থেকে ফিরেছি, আমার বড় বুবু রুবি আমার হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বললো যাতো এইটা পড়ে আয়।বুবু আমি তো শাড়ি পড়বার পারি না। আইচ্ছা দাড়া তোরে আমি পড়াই দেই, মেজ বুবুর কথা শুনে পিছনে তাকালাম।আমি শাড়ি পরমু কেন বুবু। আইজকা কি বাড়িত কোনো অনুষ্ঠান নাকি। তখন আমার সেজো বুবু বলে কেন রে রুমি আইজকা তোর বিয়া।

বোনেদের কথায় আমার মুখটা চুপসে গিয়েছিলো। বুক ভরা সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যেনো চুর'মার হয়ে যাচ্ছিলো। আমি পড়তে চাই । হালিমা বুবু আমাকে সুন্দর করে শাড়ি পড়িয়ে হাতে শরবতের ট্রে দিয়ে বলেছিলো যা আপ্যায়ন কর। যাইয়া সুন্দর কইরা সালাম দিবি।বোনের কথায় সে দিন শুধু ঘাড় নারিয়ে স্বীকার করেছিলাম।ছেলের বোন আমার হাটা দেখলো, মাথার চুল খুলে দেখলো। আমার কোমর ছাওয়া চুল দেখে সেইদিন পাত্রের বোন আমাকে পছন্দ করেছিলো। পাত্রের কাকি যখন বললো তা রান্না কেমন পারো, তখন আমার বোন জামাই বলেছিলো আমার শালি একদম খাসা সোনার টুকরা।

মাগরিবের কিছু পরে আমার আর জামিলের বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজি আসে। কাজি যখন কবুল বলতে বলে তখন আমি জিবনের হিসাব মিলাতে ব্যাস্ত। আমার জিবনটা এমন কেনো। বোনের নিম্ন সুরের ধমকে আমার হুশ হয়। এই রিমি কবুল বলস না ক্যান? ধীরে ধীরে তিন বার কবুল বলে দেই।আমার জন্য যে এরা এতটুকুই করেছে সেটাই তো অনেক।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে বোনেরা খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে বলে দেয় স্বামির সাথে কি করতে হবে। তার সব কথা যেনো মেনে চলি। কোনো প্রতি'বাদ যেনো না করি।

কাঠের পুতুলের মতো আমি শুধু শুনেছিলাম। স্বামী মানে আমার কাছে তখন বি'ষা'ক্ত কিছু। কিন্তু আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল প্রমানিত হয়। যখন সে রুমে ডুকেই বলে, একি তুমি এখনো এই সব ভারী কাপড় পড়ে আছো কেন। যাও চেন্জ করে আসো। তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছিলাম সেই প্রথম বার। ওভাবে তাকিয়ে আছো কেন, অনেক দেখতে পাবে আমায়। তোমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি আমি, কেউ কে'ড়ে নিবে না। এখন যাও তাড়াতড়ি ফ্রেশ হয়ে এসো। সেই দিন থেকেই বদলাতে শুরু করেছিলো আমার জিবনের মরি'চী'কা ধরা চাঁকা। ধীরে ধীরে সেই শ্যামপুরুষের ভালোবাসায় আ'ট'কা পড়ি আমি। আমাদের মধ্যে বন্ধু, প্রেম, ভালোবাসা তৈরিকরে দিয়েছিলেন উপরওয়ালা। বড্ড পা'গ'ল ছিলো আমার জন্য।

বিয়ের দুইদিন পরে যেখানে সব পুরুষ নিজের চাহিদা মিটাতে ব্যাস্ত থাকে সেখানে জামিল আমার রেজাল্ট শিট গুলো দেখে বলেছিলো তুমি তো অনেক মেধাবী ছাত্রী। তুমি কি আরো পড়তে চাও।ছোট করে হু বলতেই তিনি ব্যাস্ত হয়ে পড়েন ঢাকার উত্তরা ক্যান্টানমেন্ট স্কুলে আমার এডমিশনের জন্য। সে দিন সারা রাত সে ল্যাপটপে বসে ছিলেন। যেখানে আমি পড়াশোনার সব স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে ছিলাম সে যেনো নতুন করে আমাকে বাচতে শিখালো।তার ছোয়ায়ই আমি গ্রাম্য রিমি থেকে তৈরি হয়েছি আজকের এই স্মার্ট রিমি।মা-বাবা না থাকায় তার বাড়িতে আসার সময় আমি কিছুই আনতে পারিনি তবুও কোনো দিন সে আমায় অবহেলা করে নাই। কখনো খারাপ ব্যবহার করে নাই। বুঝতেও দেয় নাই যে আমি এতিম। যেমন তার সাপোর্ট ছিলো তেমন তার বাড়ির সবাইও আমাকে অনেক আদর করতো। আমার শাশুড়ি অনেক ভালো মানুষ। আমিও সেইভাবেই চলতাম শাশুড়ির অনেক খেয়াল রাখতাম। তাকে কখনো কাজ করতে দিতাম না। তার বোনেরা যখন বেড়াতে আসতো তাদের অনেক যত্ন করতাম যার কারণে সহজেই আমি তাদের আপন হয়ে গেলাম।ইন্টার কমপ্লিট করে আমি কনসিভ করি। এটা তারই ইচ্ছা ছিলো কম বয়সে আমি যেন কনসিভ না করি। সে সব সময় আমায় বলতো একটা বাচ্ছার জন্য সর্বপ্রথম একজন শিক্ষিত সচেতন মা প্রয়োজন তবেই একটা বাচ্ছা সুন্দর ভাবে গড়ে উঠে।


কনসিভ করার পর অনেক খেয়াল রাখতো আমার আমায় কাজ করতে দিতো না। সারাদিন অফিস শেষ করে এসে বাসায়ও কাজ করতো। সবকিছুতে অনেক সচেতন থাকতো আমার প্রতি। সময় মতো ডাক্তার দেখানো, সুষম খাবার, তারপরে আমার বেবি হওয়ার দিন পে'ইন নিয়ে যখন হাসপাতালে যাই আমি। মানুষটার মুখ একদম শুকিয়ে গেছে যেনো আমার না তারি ব্যা'থা করছে। আমার চাইতে বেশি ছ'টফ'ট জামিল ই বেশি করছে। একবার আমার কাছে আসছে তো একবার নার্সের কাছে যাচ্ছে। নার্সার্স যখন জানালো বেবি নরমালে হবেনা, তখন জামিলের মুখে আধার নেমে এসেছে যেনো ডক্টরের কাছে রিকোয়েস্ট করে সেও আমার সঙ্গে অটিতে ছিলো। ওটির প্রতিটা মূহুর্ত সে ছটফট করে কাটিয়েছে। এর পর আসে সেই সময় যখন আমার মেয়ে জন্ম হয়।আমার মেয়ে যখন চিৎকার করে কাঁ'দছিলো তখন জামিল আমাকে আর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললো, তুমি আমার জীবনের শ্রেষ্ট সম্পদ, শ্রেষ্ঠ উপহার ।তোমাকে হারানোর ভয় আমাকে কুরে কুরে শেষ করে দিচ্ছিলো।আমি তার দিকে তাকিয়ে শুধু একটু মুচকি হাসলাম আর মনে মনে ভাবলাম কতবড় ভাগ্যবতী আমি। একটা মেয়ে ভালো থাকার জন্য আর কি লাগে বলেন। আলহামদুলিল্লাহ্। আমার স্বামী সবসময় এইভাবে আমার পাশে থাকলে আমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ