গতকাল জীবনের শ্রেষ্ঠ খারাপ পরীক্ষা দিয়ে আসছি কিন্তু বাসায় এখনো কিছুই বলতে পারি নাই। এক্সাম হল থেকে বের হওয়ার পরই আম্মু জিজ্ঞেস করছে পরীক্ষা ভালো হয়নি? আমি শুধু বলেছি- না। বাসায় এসে রুম থেকে আর বের হইনি। এমনকি দুপুরের খাবার খেতেও যাইনি। বিকেলের দিকে আব্বু রুমের সামনে এসে বলতেছে, পরীক্ষা দিয়ে এসে বাবার সাথে দেখা করা লাগে না? আমার নীরবতা দেখে আবার জিজ্ঞেস করল,পরীক্ষা ভালো হয়নি? আমার একই উত্তর, শুধু না ।
ব্যাস আব্বু বলেই ফেলল যে প্রশ্ন কি বইয়ের বাইরে থেকে আসছে? আরও অনেক কিছুই বলছে। সেগুলো আর নাই বললাম। আমি চুপই ছিলাম। তাতেও শুনতে হয় বোবা হয়ে গেছি নাকি? যদি কিছু বলতাম তাহলেও বলতো বেয়াদবের মতো মুখে মুখে কথা বলি। (এমনিতেই পরিবারের বড় সন্তান হওয়াতে ছোটগুলার সব দোষের দায়ভার আমার উপরেই আসে।পান থেকে চুন খসলেই আমার অবস্থা শেষ। আমি বুঝিনা এরা আমার সাথে কেন এমন করে) মনে মনে শুধু বলতেছিলাম এগুলা শুনতে হবে দেখেই তো আপনার সামনে যাইনি এখনো। এই চুপ থাকতে থাকতেই হয়তো একদিন শেষ হয়ে যেতে হবে।
হাহ্, একটাবার কেউ জিজ্ঞেস করলো না পরীক্ষাটা খারাপ হইলো কেন? ঠিক কতটুকুই বা খারাপ হইছে? নিজে থেকেই যদি বলতাম যে পারা জিনিস ভুল করে আসছি। পারা টপিক লিখতে পারি নাই। কেউ বিশ্বাস করতো না। বলতো এটা নিতান্তই আমার অযুহাত। ঠিক করে পড়লে কে না পারে!
আমি যে খুব খারাপ মানের স্টুডেন্ট তা না। একটা সময় পর্যন্ত টপারই ছিলাম,এখন লুজার। কিন্তু এইটা শুধু আমি জানি আর আমার চারপাশে বসে যারা পরীক্ষা দেয় শুধু তারাই মানে। আমার বাবা-মা জানে না কেন?তারা বোঝে না কেন? আমি সে সুযোগ দেইনি। অনেক কষ্টে এপর্যন্ত নিজের অক্ষমতা আড়াল করে রেখেছিলাম। কিন্তু আর পারতেছিনা। সব কেমন যেন অসহনীয় লাগতেছে। সামনে আরও পরীক্ষা বাকি আছে। সেগুলোর জন্য পড়তেই পারতেছি না। কোনো ভাবেই এই ট্রমা থেকে বের হতে পারছি না। শুধু মনে হচ্ছে কি করে ফেললাম। সব তো শেষ। আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। 'আমি বাবা-মায়ের শত স্বপ্নের লস প্রজেক্ট'।
আমার কি করা উচিত এখন? আমার কি বাসা থেকে চলে যাওয়া উচিত? কিন্তু যাওয়ার জায়গা বা নিয়ে যাওয়ার মানুষ কোনটাই নেই।(যদি থাকতো তবে যেদিন যেতাম ঐদিনই আমার আর তার জীবনের শেষ দিন হতো- বয়ানে বাবা। বাবা কেন এইকথা আমায় ৫ বছর আগে বলেছিল আমি আসলে জানিনা। আমার তখনো এধরণের কোনো চিন্তা ছিলোনা আর এখনো নেই)। তাহলে কি বাসায় বলে দেওয়াই উচিত যে ঠিক আছে আমি এখন বিয়ে করতে রাজি। তোমরা আবার পাত্র দেখা শুরু করতে পার। যেখানে নিজের লাইফ গোছাতেই আমি ব্যর্থ যেখানে অন্য কারো জীবনের সাথে নিজেকে আবদ্ধ করার কি আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে?এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে নিজের রক্তের মানুষজনই যখন আমাকে সহ্য করতে পারে না, বাইরের মানুষ কেমনে করবে? সেক্ষেত্রে কি সুইসাইড করা উচিত? কিন্তু এটা কি কোনো সমাধান? একজন মুসলিম হয়ে নিজের সাথে এত বড় অন্যায়টা কীভাবে করবো? কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। শুধু জানি আমার সব ধৈৰ্য্য শেষ
আচ্ছা, গুড পেরেন্টিং বলতে কি আসলে এইটারেই বুঝায়? যেখানে সন্তান ভয়ে নিজের বাবাকেই তার ইচ্ছের কথা, ব্যর্থতার কথা বলার সাহস পাবে না । নিজের মায়ের কাছে মন খুলে কথা বলতে গিয়ে কড়া কথা শুনবে। মা হয়ে জানবে না সন্তানের পছন্দ-অপছন্দ? জিজ্ঞেস করলে সন্তানকে দেখিয়ে বলবে ও তো নিজেই জানে না ওর ভালো লাগা কি? এরকমই কি?নাকি অন্য কিছু? নাকি এটাই?আসলে আমি বুঝতে ভুল করছি? আমার মেন্টালিটিরই ঠিক নাই? কেউ আমাকে বলবেন একটু? ব্যাপারটা এমন না যে আমি নিজের বাবা-মাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি। আমি শুধু আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছি। নিজের কষ্টকে কমাতে কাগজে কলমে অনেক সময় অনেক কিছুই লিখেছি। পরক্ষণেই আবার পাতাগুলা ছিঁড়েও ফেলেছি। এই প্রথম এভাবে লিখছি। যদিও এখনো জানিনা পোষ্ট করবো কিনা। যদি করি যারা এই লেখাটা পড়বেন আশা করি আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। অন্তত এটুক বলবেন, What should i actually do?


0 মন্তব্যসমূহ