আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

পৃথিবীতে 'মা' না থাকলে বুঝা যায় জীবনের ব্যথা


পৃথিবীতে 'মা' না থাকলে বুঝা যায় জীবনের ব্যথা

আমি আড়াল থেকে খুব অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ভাবী খুব যত্ন করে নিজের ৪বছরের বাচ্চাটাকে জুস খাওয়াচ্ছে অথচ পাশে আমার ছোট বাচ্চাটা বসে আছে সেদিকে ভাবীর খেয়াল নেই। আমার ছোট বাচ্চাটা যখন বললো, "মামী আমিও জুস খাবো" তখন ভাবী বিরক্ত হয়ে বললো,

"কি রা/ক্ষ/স ছেলেরে বাবা! যেটা দেখবে সেটাই খেতে চাইবে সন্তান কিছু খেতে চাইলে আর কেউ রা/ক্ষ/স বলে গালি দিলে সেটা মায়ের জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক সেটা একজন মা বাদে কেউ বুঝবে না। আমি অন্যরুমে গিয়ে নিজের ছেলের নাম ধরে কয়েকবার ডাকলাম। ছেলেটা যখন দৌড়ে কাছে এসে বললো, -" মা আমায় ডেকেছো?"

আমি তখন ছেলের গালে থা/প/ড় মে/রে বললাম, --অন্যের খাওয়া দেখে এতো খেতে চাস কেন? তোকে না বলেছিলাম কিছু খেতে ইচ্ছে হলে আমায় বলবি আমার ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বললো,

-"তোমায় বলে কি হবে? তুমি তো কিনে দাও না ছেলের এমন কথা শুনে আমি নিজেও কেঁদে দিলাম। ঠিকিই তো, ছেলের আবদার কিছুই পূরণ করতে পারি না। স্বামী মা/রা যাবার পর বাচ্চাটাকে নিয়ে ২বছর ধরে ভাইয়ের সংসারে পরে আছে। ভাই যে তিনবেলা খাওয়াচ্ছে সেটাই তো অনেক সেদিন খেয়াল করি আমার ভাই তার নিজের ছেলেকে বুকের উপর রেখেছে আর আমার ছেলেটাকে বলছে ভাইয়ের মাথার চুলগুলো টেনে দিতে। এই দৃশ্যটা দেখে আমার মোটেও খারাপ লাগে নি। কিন্তু খারাপ লেগেছে তখন যখন আমার ছেলে তার কচি কচি হাত দিয়ে ভাইয়ের মাথার চুলগুলো টানতে টানতে বললো,

"মামা, তুমি আমায় শিহাবের মতো একটা লাল গাড়ি কিনে দিবে? সেদিন শিহাবের( ভাইয়ের ছেলে) গাড়ি নিয়ে আমি খেলছিলাম দেখে মামী আমার কানে ব্যথা দিয়েছিলো" এই কথাটা শুনে. একবার ভাবী তার ছেলের জন্য মার্কেট থেকে কয়েকসেট প্যান্ট-শার্ট কিনে আনলো। আমার ছেলে কাপড় দেখে পাগল হলো সেও নতুন প্যান্ট-শার্ট পরবে। ভাই তখন ভাবীকে বললো, "একসেট কাপড় ইয়ামিনকে (আমার ছেলে) দাও" ভাবী মুখটা গোমড়া করে একসেট কাপড় আমার হাতে দিলো।

আমার ছেলে নতুন কাপড় পরে মহাখুশি। আর আমার ছেলের হাসিখুশি মুখটা দেখে আমার নিজের ভিতর খুব আনন্দ হচ্ছিলো আমার ছেলে কাপড়গুলো কিছুতেই খুলছিলো না। নতুন শার্ট-প্যান্ট পরা অবস্থায় রাতে ঘুমিয়েছিলো। ছেলে ঘুমানোর কিছুক্ষণ পর ভাবী আমার রুমে এসে বললো,~"জান্নাত, কিছু মনে করো না। আমি খুব শখ করে আমার ছেলের জন্য কাপড়গুলো কিনেছিলাম। তাছাড়া কাপড়গুলো খুব দামী। তুমি এই কাপড়গুলো আমায় দিয়ে দাও। আমি তোমার ছেলেকে কয়েকদিন পর অন্য কাপড় কিনে দিবো নে আমি হাসি মুখে ভাবীকে বললাম, আরে না না, কিছু মনে করার নেই এইখানে। আপনি শখ করে আপনার ছেলের জন্য কিনেছেন এইকথা বলে আমি আমার ছেলের গা থেকে কাপড় গুলো খুলে ভাবীর হাতে দিলে ভাবী কাপড়গুলো নিয়ে চলে গেলো। আমি সেদিন সারারাত ঘুমায় নি। ছেলের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে সারারাত চোখের জল ফেলেছিলাম

পরদিন সকালে নতুন কাপড় দেখতে না পেয়ে আমার ছেলে যখন কান্নাকাটি করছিলো তখন আমি আমার ছেলের মুখের দিকে একবারও তাকাই নি। আমি আমার মতো করে চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়ে পড়ছিলাম আর নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছিলাম,

একবার আমার ছেলে খুব অ/সু/স্থ হয়ে যায়৷ ৩-৪দিন ধরে টানা জ্বর। ভাইয়াকে বললে ভাইয়া ফার্মেসি থেকে কিছু ঔষধ এনে দেয়। কিন্তু এইসব ঔষধে কোন কাজ হচ্ছিলো না। নাস্তার টেবিলে ভাইয়াকে আমি বললাম,

--ভাইয়া, ইয়ামিনের জ্বরটা কিছুতেই কমছে না আমি যেদিন ভাই ভাবীর বাসা থেকে বিদায় নিবো তখন ভাবী মুখটা বাঁকিয়ে বললো, ~" কথায় আছে, যখন তোমার কেউ ছিলো না তখন ছিলাম আমি এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি। তেমনি যখন চাকরি ছিলো না তখন ভাই ভাবীর সংসারে ঠিকিই থাকতে পেরেছো আর এখন বড় চাকরি পেয়েছো বলে আমাদের পর করে চলে যাচ্ছ আমি ভাবীর কথা শুনে কিছু না বলে শুধু একটু হাসলাম। ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ভাইয়াকে বললাম, - ভাই আমি আসি। দোয়া করো আমার জন্য ভাই তখন বিরক্ত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, তুই কি ভাবছিস আমি তোর চাকরির টাকাতে ভাগ বসাবো। এমনটা আমি কখনোই করবো না। এতো লোভ আমার নেই। আমার বাসা থেকে তোর অফিস খুব একটা দূরে না। তাহলে আমার বাসায় থাকলে সমস্যা কি ভাবী পরের মেয়ে তাই ভাবীর কথাগুলো আমি খুব একটা গায়ে মাখি না। কিন্তু নিজের রক্তের ভাই যখন উল্টো পাল্টা কিছু বলে আর সহ্য হয় না আমি ভাইয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,লোভ আমারও নেই ভাইয়া। তুমি যে বাসায় থাকো সেই বাসায় আমারও অংশ আছে। যদি লোভ থাকতো তাহলে বলতাম আমার অংশ আমায় দিয়ে দাও। দিনের পর দিন তোমার বউয়ের কটু কথা আমি সহ্য করতাম না ভাবী অবাক চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো, আমি কি করেছি আমি হেসে উত্তর দিলাম, -না না তুমি কিছু করো নি। শুধু আমার ছেলে তোমার ছেলের খেলনা ধরতো বলে আমার ছেলের কান ধরে টানতে। আমার ছেলে তোমার ছেলের কাপড় পরেছিলো বলে তুমি সেই কাপড়গুলো আমার হাত দিয়ে খুলিয়ে নিয়েছো শুধু। তোমার ছেলে কিছু খেতে চাইলে তুমি খুশি হতে। সুদিন আসবেই!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ