আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

বাবা হারা ছেলের কষ্টের কথা

বাবা হারা ছেলের কষ্টের কথা

এই রিক্সা যাবে নাকি? কই যাবেন স্যার?

আযিযুল হক কলেজ,(জলেশ্বরীতলা থেকে) কত দিবো? - ২০ টাকা দিয়েন স্যার।

পাশের অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত রিকশা, বা সামর্থ্যবান ব্যাক্তিরা কেউই ৩০ টাকার নিচে যাবেনা। (যদিও ন্যায্য ভাড়া ২৫ টাকা)তাই উঠে পড়লাম। উঠতে না উঠতেই হঠাৎ খারাপ লাগল।একে তো রিক্সা টাও ভালো ছিলনা, আর ও টেনে আগাতে হিমসীম খাচ্ছিলো। ইচ্ছা হচ্ছিলো রিক্সা দিয়ে নেমে যাই, কিন্তু সারাদিনের Hectic- সময় পার করার পর আমারো নামার মতো অবস্থা ছিলনা সত্যিই। যেতে যেতে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই তুমিতো তো চালাতে পারছো না, এভাবে কি তুমি যেতে পারবে?

- পারমু স্যার, আমার তো চালাইতেই হবে। (আমার আবেগ টা যতটা সত্যি ততটাই সত্যি ছিলো ওর বাস্তবতা) এরপর, জিজ্ঞেস করলাম - বাসায় কে কে আছে? বলল- মা, হামি( আমি), এক বুইন। তোমার বাবা কই?

-বলল বাবা মারা গেছে। তোমার মা কোনো কাজ করেন না? (এবার বাস্তবতা আরো নিষ্ঠুর) স্যার, মা অসুস্থ্য !

কেন, কি সমস্যা? - স্যার, মায়ের কিডনি নষ্ট, বগুড়ার ডাক্তার ঢাকা নিতে কইছিলো, ঢাকার ডাক্তার রা কইছে তোমার মা বাঁচবেনা।

এর থেকে আর কিছু নির্মম হতে পারেনা যে, মায়ের বাঁচার সম্ভাবনা নেই তা সন্তান জানে।

বললাম, রিক্সাটাও তো ভাঙা, একটা ইঞ্জিন এর রিক্সা নিতে পারতা। স্যার ওইগুলার জমা বেশি, মায়ের ঔষধ কেনা লাগে, টাকায় হয়না। শুনছিলাম মানুষের জীবনে হতাশা কি হতে পারে, তার জীবনে কষ্টের রেল লাইনের গতি কতটা দ্রুত হতে পারে ! জীবন সংগ্রামে ছোট্ট এই ছেলেটা প্রতিনিয়ত হেরে গিয়েও একবার ও হাল ছেড়ে দিচ্ছেনা! না সে আমাদের মত এত শিক্ষিত নয়, হ্যাঁ সে অশিক্ষিত, কিন্তু তার বিবেক আমাদের শিক্ষিত সমাজের থেকে অনেক এগিয়ে।

যখন দিনে দিনে বৃদ্ধাশ্রম গুলো বেড়ে চলছে তখন মা এর প্রতি এই ভালোবাসা আমাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যে ছেলেটা জানে তার মা বাঁচবেনা সে তবুও প্রতিদিন ৫০০ টাকার ঔষধ কেনা চেষ্টা করছে এই আশায় হয়ত মা বেঁচে যাবেন। কষ্টে চোখে জল এসে যাচ্ছিলো ওর জীবনের গল্প শুনে।

আর আমাদের সমাজে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা প্রথম পদক্ষেপে ব্যর্থ হওয়ার পর মনে করে আমার দ্বারা কিছুই হবে না, পরিবারও কেমন যেন বিমাতা সুলভ আচরন শুরু করে।যাদের সামনে অনাবিল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হাল ছেড়ে দেয়, তাদের জন্য ঐ অশিক্ষিত শিশু রিক্সা ওয়ালার থেকে শেখার আছে।

রিক্সা থেকে নেমে, আমার পকেটে ঠিক ৫০০/- ছিলো, আমি ওটা দিয়ে দিলাম, বললাম ভাইয়া আমারো সামর্থ্য কম, তবে ইচ্ছা অনেক বেশি, থাকলে তোকে আরো কিছু টাকা দিতাম। আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অসংখ্য প্রতিনিয়ত ঘোরে ফিরে ঘটে ।

মানুষ মানুষের জন্য সুতরাং দয়া করে অসহায় মানুষের বিশেষ করে ঝরে পড়া শিশুদের সাহায্য করুন এবং তাদের প্রতি মানবিক হোন 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ