আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

এক বৃদ্ধ বাবার কষ্ট

এক বৃদ্ধ বাবার কষ্ট

ফরিদপুর মেডিকেল থেকে বের হবার সময় হঠাৎ নজর গেলো এই বৃদ্ধের দিকে। মানুষটার বয়স ৭০+ হবে৷ সবাই আসছে যাচ্ছে কিন্তু কেউ তাকাচ্ছে না। আমি এগিয়ে গেলাম। হাতে থাকা টিকিট টা নিয়ে বুঝতে পারলাম চোখে সমস্যা। তাকে জিজ্ঞেস করলাম।

- আপনাকে ৫০০ বেড়ে যাইতে হবে। চোখের সমস্যা আপনার? এখন তো কোন ডাক্তার নাই চলে গেছে সব। ওনার তরফ থেকে কোন রেসপন্স আসলো না৷ ততক্ষণে বুঝতে বাকি রইলো না বৃদ্ধ কানেও কম শোনে এবং হাঁটতেও পারেন না। আমি আবার জোরে কানের কাছে গিয়ে বললাম,

- কাকা, - আসবেন। আজকে ডাক্তার নাই। আপনি রবিবারে অনেক বার বলার পর সে বুঝতে পারলো আজকে ডাক্তার নাই। ২ দিন পর তাকে আসতে হবে। প্রায় ১০ মিনিট লাগলো তাকে বোঝাতে। যা বুঝতে পারলাম কিঞ্চিৎ মানসিক সমস্যাও আছে। এরকম একজন লোককে এই কড়া রোদে রাস্তায় ছেড়ে যাবো? অসম্ভব। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার বাড়ি কই? বাড়িতে কেউ নাই? কেউ আসেনি বাড়ি থেকে?

- না, ছাওয়াল আছে, কনে থাহে জানিনা। আমারে দেহে না। কোনজায়গা বাড়ি আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। এই শহরে আমি নতুন তাই বার বার জিজ্ঞেস করেও তার কথার মানে বুঝতে পারছি না। ডাক দিলাম এক ইজিবাইক ড্রাইভারকে। উনি যেন আমলেই নিলেন না। বৃদ্ধকে দেখেই না না বলে গাড়ি টান দিলেন। বোঝা গেলো ঝামেলা নিতে চান না। অথচ তার কাছে জাস্ট ঠিকানা শুনতে চাচ্ছিলাম।

খানিকক্ষণ বাদে এক রিকসাওয়ালা আসলেন। তিনি বুঝতে পারলেন কই যাবে। সাধারণত বৃদ্ধ, অকেজো লোক দেখলে রিকসাওয়ালা অটো অলা আগেই না করে দেয়। কিন্তু এই ছেলেটা আমাকে মুগ্ধ করে দিলো। সে নিজ হাতে বৃদ্ধকে রিকসায় তুললেন। আমি তাকে ভাড়াটা দিয়ে দিলাম। সাথে বৃদ্ধকে সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকটা নোট হাতে গুঁজে দিলাম৷ বৃদ্ধ লোকটা আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে কাছে টেনে নরম সুরে বললেন,

- বাজান, তোমার মত ছাওয়াল সব ঘরে হোক। এইখানে অনেক মানুষ আছে কিন্তু কেউ আমারে একটু সাহায্য করলো না। আমার হার্ট বরাবর হাত রেখে বললেন এই হৃদয়টা অনেক দামি আমার কাছে৷

অনেক বড় হও বাজান।

বৃদ্ধের চোখে কিঞ্চিৎ পানির ছোঁয়া। আমি ভেবেছিলাম হয়তো তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। কিন্তু শেষে আমাকে অবাক করে দিলেন তার ওই বাক্যগুলো। আমার মনটা ভরে গেলো। মুচকি হাসি আর বুকের বাঁধটা ধরে রাখতে পারলাম না।

আমাকে অবাক করলো রিকসাওয়ালা ছেলেটার শেষের কথা। আমি তাকে বললাম জায়গা মত নামিয়ে দিয়েন? আর আপনাদের ধন্যবাদ। অনেকে নিতে চায় না। কিন্তু আপনি যেন নিজের বাবার মতই তাকে রিকসায় তুললের হুড তুলে দিলেন। সে আমাকে বললো,

- আর কে কি করে জানিনা, আমার নিজের বাবা হলেও তো আমি এটাই করতাম। আমারও তো একদিন এমন হতে পারে।

কি সুন্দর চিন্তা ছেলেটার। এরা আছে বলেই তো মনুষ্যত্ব বেঁচে আছে? আমাদের আশেপাশে এমন অনেক বৃদ্ধ গরীব পাবেন৷ টাকা দিয়ে না হোক অন্তত ভালোবাসাটা দিয়েন



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ