অলৌকিক ঘটনা
আশেকে রাসুল মিলন মিয়া,পিতাঃ- মরহুম আশেকে রাসুল আইন উদ্দিন মিয়া, গ্রামঃ- নোয়াগাও,থানাঃ- সরাইল,জেলাঃ- বি-বাড়ীয়া।
তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন আবুধাবিতে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতাম। কোন এক কারণে কোম্পানির কাজ না থাকায় আমি সহ হাজার লোকের চাকরি চলে যায়। অনেকে চলে আসলো আবার অনেকে থাকার জন্য চেষ্টা করতে লাগলো। আমিও পাটনার লাইসেন্স ভিসা করলাম তিন বছরের জন্য। যথারীতি বিভিন্ন সাইডে কাজ করছি,ইতিমধ্যে দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর লাইসেন্স রি-নিউ করতে হয়। আমি আমার পাটনারকে খুঁজে পাইনা, যার কারণে আমি আমার লাইসেন্স রি-নিউ করতে পারছিলাম না। আবুধাবির আইনে লাইসেন্স সঠিক সময়ে রি-নিউ না করলে ইমিগ্রেশন পুলিশ জেল জরিমানা করে,এই ব্যাপারে আমি খুব চিন্তিত ছিলাম। ২০১৯ সালের ১৯ শে অক্টোবর সকালে কাজের উদ্দেশ্যে দোতলা বাসা থেকে বের হতেই বেলকুনী থেকে দেখলাম চতুরদিকে প্রচুর মানুষের দৌড়াদৌড়ি, অর্থাৎ ইমিগ্রেশন পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে । আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমি এখন কি করবো ভাবছি, তারা বাহিরের ধরপাকড় শেষ করে ভীতরেও আসবে চেক করতে। এমন সময় আমি মনে মনে দয়াল বাবাজানকে স্বরণ করে বলতেছি আমার এখন কি হবে!! পুলিশতো আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। কিছুক্ষন পরে আমার ভীতর থেকে কেউ বলছেন, বাহিরে যা-ও নাস্তা কর।
একটু সাহস পেলাম, কিন্তু বাসা থেকে নিচে নামতেই দেখলাম গেইটেও পাঁচজন পুলিশ সবার আইডি কার্ড চেক করতেছে, যার ঠিক আছে তাকে ছাড়ছে আর যার ঠিক নেই তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়ীতে তুলছে। আমিতো আরও ভয় পেয়ে গেলাম। আমারতো কাগজের ডেট ওভার হয়ে গেছে এখনতো জেলে যেতে হবে। তখনি আমার মাঝে এক পরিবর্তন হতে লাগলো, আমি যেন হুবহু বাবা দেওয়ানবাগী হয়ে গেলাম, এটা কিভাবে সম্ভব? তখন পুলিশ আমাকে ডাকছে," ইয়া হাজী সালা মালেক তাল তাল, হুয়েন রুহ ইন্তা আক্কেল" অর্থাৎ সে আমাকে সালাম দিয়ে বলছে, আমার কাছে এসো তুমি কোথায় যাবে নাস্তা করবে নাকি? আমি বললাম," ওয়া আলাইকুমুসসালাম সাদিক আনা মাকান" অর্থাৎ আমি সালামের উত্তর দিয়ে বললাম, আমি নাস্তা খেতে যাবো। তারা বললো," রুহ ইন্তা রুহ" অর্থাৎ আপনি যান। আমাকে আর কোন চেক করলো না। আমি আস্তে আস্তে হোটেলের দিকে যাচ্ছি,রাস্তার চতুর্দিকেই লোকদের চেক করছে, আমি আমার মতো যে হোটেলে নাস্তা করি সেখানেই গেলাম। সেখানেও একই অবস্থা। আমি ভীতরে গিয়ে বসতেই আমার পছন্দের নাস্তা দিল হোটেলের মেসিয়ার। আমি খাচ্ছি, তখনই হোটেলের গেইট লক করে দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ সবার আইডি কার্ড চেক করতে লাগলো। কাউকেই বিনা চেকে যেতে দিচ্ছে না, প্রতি টেবিলে গিয়ে তারা চেক করছে।
যার কাগজ পত্রে ঝামেলা দেখছে,তারই হাতে হ্যান্ডকাপ লাগাচ্ছে। আমারতো খাওয়া শেষ, আর কত সময় বসে থাকবো। মনের অজান্তেই উঠে দাঁড়ালাম, তখন আমার মধ্যে আবার সেই পরিবর্তন হলো,এবার দেখি আমি যেন হুবহু দয়াল মেজো হুজুর হয়ে গেলাম। মনের মধ্যে সাহস পেলাম, তখন আমি আস্তে আস্তে কাউন্টারে বিল দিতে গেলাম। তখন তাদের একজন বলছে, " আদা নফর চেক" অর্থাৎ উনাকে চেক করো। অন্যজন বলছে, " লালা আদা নফর আরবাব" অর্থ উনি ব্যবসায়ী, তখন আর একজন বলছে, " সুমুশকিলা চেক" ব্যবসাায়ী হয়েছে তাই কি হয়েছে চেক করো। তখন আর একজন বলছে, " লালা আদা কবির আরবাব সাইয়ারা ইনাক" অর্থ উনি সাধারণ ব্যবসায়ী নন উনি অনেক বড় ব্যবসায়ী। উনার গাড়ীটা দেখ, তখন হোটেলের সামনে একটা দামী গাড়ী ছিল। ওরা ভাবছে ঐ গাড়ীটা আমার। এভাবে সেখান থেকে বাসার দিকে যাচ্ছি, গিয়ে দেখি বাসার গেইটে এখনো কয়েকজন পুলিশ আছে, তাদের একজন হাসতে হাসতে বলে, " সালামালেক আরবাব মাফি সুকলনুম" অর্থাৎ সালাম দিয়ে বললো, আজকে কাজে যাবেনা? নাকি ঘুমাবেন? আমিও হাসতে হাসতে সালামের উত্তর দিয়ে ঘুমাবো বলে বাসায় চলে গেলাম। বাসায় গিয়ে শুনলাম আমার রুমমেট ও এই ফ্ল্যাটের অনেককেই ধরে নিয়ে গেছে। যারা আমার আইডি কার্ড সম্পর্কে জানতো, তারা অনেকেই জানতে চাচ্ছে আমি কিভাবে ওদের হাত থেকে বেঁচে গেলাম? আমি তাদেরকে বললাম, আমার মোর্শেদ এবং তাঁর সম্মানিত মেজো সাহেব জাদা দয়াল মেজো হুজুরের দয়ার বরকতে বেঁচে গেছি। দয়াল বাবাজান এবং দয়াল মেজো হুজুরের নূরের কদম মোবারকে জানাই লক্ষ কোটি সালাম ও কদম বুচি।


0 মন্তব্যসমূহ