আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

অলৌকিক ঘটনা ৪


অলৌকিক ঘটনা

আশেকা রাসুল নুরজাহান, পিতাঃ- আশেকে রাসুল মন্ছুর মাল, গ্রামঃ- আউচ পাড়া, হোসেন মার্কেট, থানাঃ- টঙ্গী, জেলাঃ-গাজীপুর।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রায় রাত্রেই অদ্ভুত ভাবে আমি স্বপ্নে দেখতাম, কালো ছায়ার মতো ভয়ংকর এক মানব আকৃতির দৈত্য দানব এসে আমার উপরে আক্রমণ করার চেষ্টা করছে। আমি আমার মহান মোর্শেদ কেবলাজানের কদম মোবারকে ভূল-বেয়াদবীর জন্য ক্ষমা ও দয়া ভিক্ষা চাইতাম । এদিকে দিন দিন আমার শরীর খুব অসুস্থ হতে লাগলো। আমি একটি বারের জন্যও হতাশ হতাম না। ভাবতাম আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান এবং মহান ইমাম দয়াল কুদরত এ খোদা আমার সাথে আছেন। প্রতি রাত্রে মহান মোর্শেদ কেবলাজানের কাছে আজিজী করে ঘুমাইতাম। প্রায়ই দেখতে পেতাম আমার কিছু আত্মীয় স্বজনরা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
এর মধ্যে ০৬-১১-২০২২ইং তারিখে আমার H.S.C ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হলো। পরীক্ষার আগে মহান মোর্শেদ কেবলাজানের দরবারে একটা মানত করি। শরীরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় যতই পড়ি সব ভূলে যাই। এমন এক পরিস্থিতিতে পরীক্ষার হলে ঢুকে দেখি আমার সিট একেবারে সামনের বেঞ্চে। আমার শিক্ষা জীবনে এই প্রথম সামনের বেঞ্চে সিট পড়েছে। হতাশ না হয়ে আমি আমার জায়গায় বসে চোখ বন্ধ করে, আল্লাহ, মোর্শেদ ও দয়াল কুদরত এ খোদাকে স্বরণ করতে লাগলাম। যখন চোখ খুললাম, তখন দেখি আমার পাশে স্বয়ং দয়াল কুদরত এ খোদা বসে আছেন। আমার মন একদম শান্ত হয়ে গেল। তখন আমি দয়াল কুদরত এ খোদাকে বললাম, ওগো দয়াল তুমি আমাকে সাহায্য না করলে আমি কিছুই লেখতে পারবো না গো!! এমন সময় ম্যাডাম আমাকে প্রশ্ন দিলেন। আমি প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর সুন্দর করে লেখতে পারলাম। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এক মূহুর্তের জন্যও দয়াল কুদরত এ খোদা আমার চোখের আড়াল হননি। তিনি পুরো সময় আমার পাশে হাসি মুখে বসে ছিলেন। আমি আশেকা রাসুল নুরজাহানের ভাই গোলাম মোর্শেদ নিরব ভাইয়ের মাধ্যমে ফোন করে জানতে চাই এমতাবস্থায়তো অনেকে চিৎকার দেয়, আপনার তখন কি হাল হয়েছিল? তখন নূর জাহান আপা বলেন, দয়াল কুদরত এ খোদা আমাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিলেন। আমার মনে হয় তখন আমার নিজের অস্তিত্ব কোন কাজ করে নাই। আমি দয়াল কুদরত এ খোদার নিয়ন্ত্রনে থেকে পরীক্ষা শেষ করেছি।
পরীক্ষার মাঝে আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন আর কোন ভাবেই পড়াশোনা করতে পারলাম না। ডাক্তারের কাছে গেলে টাইফয়েড জ্বর ধরা পড়লো। ঔষধ দিলো, কিন্তু ঔষধে কোন কাজ করলো না। এর মধ্যে ১০-১১-২০২২ইং তারিখে কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই ইংরেজি পরীক্ষা দিতে গেলাম। যতটা না লেখেছি তার থেকে দয়াল কুদরত এ খোদাকে স্বরণ করেছি। বাসায় এসে দয়াল কুদরত এ খোদার কদম মোবারকে আজীজি করে কান্নাকাটি করি, তিনি যেন আমাকে পাশ করিয়ে দেন,আর আমার খারাপ রেজাল্টকে নিজগুণে ভালো করে দেন।
ঐদিন দুপুরে কান্না করতে করতে যখন ঘুমিয়ে পড়ি, তখন স্বপ্নে দেখি,দয়াল কুদরত এ খোদা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি মাথা নীচু করে দয়াল কুদরত এ খোদা যা বলতেছিলেন,সব কথা শুনতেছিলাম। তারপর তিনি এ অধমের কপালে হাত মোবারক রাখলেন, সাথে সাথে আমার সারা শরীর শান্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। সেই ছোঁয়া আর সেই অনুভূতি বলে বা লেখে প্রকাশ করার মতো নয়। এর দুই দিন পর আবারও স্বপ্নে দেখি আমার মৃত্যু অবধারিত, আর কিছু সময় বাকি। তখন আমি আমার মোর্শেদ কেবলাজানকে স্বরণ করার সাথে সাথে দেখি,তিনি আমার সামনে কুরসি মোবারকে বসা, আমি মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গেলাম। তার পরের দিন আবারও আমার মোর্শেদ কেবলাজান স্বপ্নে হাজির হন এবং তিনি আমাকে বলেন, বিগত কয়েক দিন তোমার একজন আত্মীয় তোমাকে মেরে ফেলানোর জন্য দুইটা বান মেরেছে। তারপর আমার স্বপ্নের কথা আমার মাকে বলার পর মা আমাকে আত্মার বানী চুবানো পানি পান করতে দেন এবং একটা মানত করেন। আমি তখন সমানে দয়াল কুদরত এ খোদার কদম মোবারকে আজিজী করতে থাকি, তিনি যেন আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এরপর দয়াল বাবাজান এবং দয়াল কুদরত এ খোদার উছিলায় আমি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠি।
আমার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পূর্বে কয়েক মাস দয়াল কুদরত এ খোদার কদম মোবারকে আজিজী করতে থাকি, কারণ তিনিইতো আমাকে পরীক্ষার হলে উপস্থিত থেকে সাহায্য করেছেন। অবশেষে গত ০৮-০২-২০২৩ ইংরেজি তারিখে আমার H.S.C পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়। যেখানে আমার পাশ করার কথা ছিল না, সেখানে আমি দয়াল কুদরত এ খোদার উছিলায় জিপিএ 4.83 পয়েন্ট পেয়ে পাশ করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ