আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

অলৌকিক ঘটনা -১৫

অলৌকিক ঘটনা -১৫

মহান মোর্শেদ কেবলাজানের অনুমতিক্রমে ইমাম ডক্টর কুদরত এ খোদা (মাঃ আঃ) হুজুর যখন আশেকে রাসুল জাকের ভাইদের গোলামীর সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করলেন, তখন সাবেক আশেকে রাসুল পরিষদের সভাপতি সেক্রেটারি এবং তাদের সহযোগীদের দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয়ে তিনি এক নির্দেশেই আশেকে রাসুল পরিষদ বাতিল করে দিলেন। তখন এই বাঁধাগ্রস্তকারীদের মূল হোতা তার আজ্ঞাবহ সভাপতি সেক্রেটারি ও তাদের সহযোগীদের আশ্বাস দিয়ে বললো তোমরা তোমাদের অবস্থানে শক্ত হয়ে থাকো এবং অপেক্ষা কর,দেওয়ানবাগীর সময় প্রায় শেষ এরপরে দেখা যাবে কার দোর কতদূর। মূলত তার এই চ্যালেন্স শুধু ইমাম ডক্টর কুদরত এ খোদা (মাঃ আঃ) হুজুরের সাথে নয়, তার এই চ্যালেন্স ছিল বেলায়েতের যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহামানব মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবন দানকারী সূফী সম্রাট হজরত মাহবুব এ খোদা দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজানের বিরুদ্ধে।

আমি সর্বশেষ লেখেছিলাম, এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিল জানতে পারবেন পরবর্তী পর্বে। এটা জানানোর আগে আমি আপনাদের খেদমতে পেশ করবো, মোহাম্মদী ইসলামের নব্য ফেতনা সৃষ্টি কারীদের মূল হোতার নেপথ্য কাহিনী। তার জীবন চরিত্র হুবহু সাবেক আযাযিলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ১৯৮৫ সালে আমাদের মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হজরত দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজান, তাঁর মোর্শেদের দরবার থেকে ঢাকায় এসে তরিকা প্রচারের জন্য দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করে কার্যক্রম শুরু করলেন। তখন যারা তাঁর সফর সঙ্গী হয়ে ঢাকা এসেছিলেন, তাদের মধ্যে পূর্বে যারা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, তারা স্ব স্ব কাজে নিয়োজিত হলেন। তাদের মধ্যে হঠাৎ করে একটা নতুন মূখ দেখা গেল, আর সে হলো আমাদের মহান মোর্শেদ কেবলাজানের বড় ভাইয়ের বড় ছেলে অর্থাৎ ভাতিজা। মহান মোর্শেদ কেবলাজানের নিজস্ব লোক হিসেবে সে অতি দ্রুত সবার সামনে চলে আসলো৷ এর মধ্যে সূফী সম্রাটের বড় ভাই ইন্তেকাল করলেন। তাতে ভাতিজার প্রতি মহান মোর্শেদ কেবলাজানের মায়া হলো, এবং বড় ভাইয়ের অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি তাঁর বড় সাহেব জাদীকে তার সাথে বিবাহ দিলেন। ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ) আমার সাথে একদিন একান্তে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ বলে ফেললেন, আমার জীবনে আমি একটা বড় ভূল করে ফেলেছি। আর সেই ভূলটা ছিল তাঁর মেজো সাহেব জাদীকে মাওলানা কুতুবউদ্দিনের সাথে বিবাহ দিয়া।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান যদি তাঁর বড় সাহেব জাদীকে ভাতিজার সঙ্গে বিবাহ না দিতেন, তাহলে আজ মোহাম্মদী ইসলামের মধ্যে কোন ফেতনা হতো না। যাইহোক ভাতিজা যখন এক লাফে তাল গাছের মাথায় উঠে গেল, তখন তার অন্তরের মধ্যে অহংকারের বীজ থেকে চারা গজিয়ে গেল। এদিকে স্বাভাবিক ভাবেই দরবার শরীফের সকল কার্যক্রমের চাবি কাঠি তার হাতের কব্জায় চলে আসলো। তখন সে জেগে জেগেই স্বপ্নে দেখতে শুরু করলো আমি এই হবো সেই হবো ইত্যাদি। আসলে শুধু কাজকর্ম করেইতো আর সবকিছু হওয়া যায় না, ব্যক্তিত্ব লাগে। ইমাম শাহ্ চন্দ্র পুরী (রহঃ)'র একজন মুরিদ যাকে ইমাম হুজুর তরিকার সবক দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সে একদিন আমাকে বললো, তুমি বাবাকে জিজ্ঞেস করেতো,তাঁর পরে খলিফা কে হবে? সম্ভবত তার ভীতর পীর হওয়ার একটা খায়েশ ছিল। তখন আমার তরিকার বয়স অনেক কম,তাই আমিতো আর এত কিছু বুঝি না।আমি দরবারে যাই কিন্তু কথাটা জিজ্ঞেস করার সাহস পাই না। একদিন ইমাম হুজুর নিজেই দয়া করে আমাকে বললেন, আপনি কিছু জানতে চান? আমি বললাম জ্বি বাবাজান। তিনি বললেন কি জানতে চান? আমি ভয়ে অস্তির হয়ে গেলাম। তবুও একটু হেকমত করে বললাম বাবাজান, খাজা এনায়েত পুরী (রহঃ) সর্ব প্রথম যখন খাজা ওয়াজেদ আলী (রহঃ)'র সামনে হাজির হলেন, তখনই তিনি বুঝতে পারছিলেন তাঁর কামলিয়াত হজরত খাজা এনায়েত পুরী (রহঃ) ধারণ করতে পারবেন। বাবাজান আপনি যখন সর্বপ্রথম হজরত খাজা এনায়েত পুরী (রহঃ)'র সামনে হাজির হলেন, তখনই তিনি বুঝতে পারছিলেন তাঁর কামলিয়াত চন্দ্রপুরী ধারণ করতে পারবে।বাবা আপনার পরে?
একথা বলার পর আর কিছু বলার ক্ষমতা আমার ছিল না। তখন ইমাম হুজুর দয়া করে বললেন, আর কিছু জানতে চান?
তখন আমি একটু সাহস পেলাম। বললাম বাবাজান দেল মিশানোর ক্ষমতা বা তাওয়াজ্বো এত্তেহাদী প্রয়োগ করার ক্ষমতা লক্ষ লক্ষ জাকেরের মধ্যে একজনই পায়? না একাধিক ব্যক্তি পায়?তখন তিনি দয়া করে বললেন, আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাব এখন দেবোনা পরে জানাবো। তবে দেল মেশানোর ক্ষমতা বা তাওয়াজ্বো এত্তেহাদী প্রয়োগ করার ক্ষমতা, এটা সাধন ভোজনের জিনিস নয়। এটা খোদা প্রদত্ত ব্যক্তির প্রয়োজন। অতএব এটা একাধিক ব্যক্তিও পেতে পারে আবার কেউ নাও পেতে পারে। তখন আমি বুঝতে পারলাম আমার মত নাদানের পায়ের মধ্যে রশি লাগিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত বাদুড়ের মত ঝুলিয়ে রাখলেও আমি কখনো আবদুল কাদির জিলানীর মত বা ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী মত হতে পারবো না। একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিরাই তা হাসিল করতে পারে। ফিরে আসি ভাতিজার কাছে। সে যে জেগে জেগে স্বপ্নে দেখতেছিল আমি এই হবো সেই হবো, সে যে কি হবে তার কর্মেই তা বলে দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে বেলায়েতের যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহামানব সূফী সম্রাট হজরত মাহবুব এ খোদা দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজানের বয়স যখন চল্লিশ বছর, তখন এই মহামানবের আসল পরিচয় সম্পর্কে শত শত আশেকে রাসুল জাকের ভাইয়েরা বিভিন্ন ভাবে দেখতে শুরু করলেন এবং তারা সূূূফী সম্রাটের কদম মোবারকে এসে তা বলতে লাগলেন। আমি অল্প কিছুদিন আরামবাগে সূফী সম্রাটের সহবতে থাকার সুবাদে শতাধিক স্বপ্ন বা ঘটনা আমার ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করি। সেখান থেকে মাত্র ২০টি স্বপ্ন বা ঘটনা আমি আমার ৩ নাম্বার পর্বে বা পোস্টে উল্লেখ করেছি।
পরিতাপের বিষয় শত শত আশেকে রাসুল জাকের ভাইয়েরা সূূূফী সম্রাটের আসল পরিচয় সম্পর্কে এত কিছু দেখলেন, অথচ ভাতিজা কিছুই দেখলো না। দেখবে কিভাবে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানতো তার চাচা লাগে বড়ো জোর শশুর আব্বা। তার কাছে এর চেয়েতো আর বেশি কিছু না। তা ছাড়া সেতো দরবারের কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতো। এর বাহিরেতো তার কাছে আর কোন খবর ছিল না। তার মনে মনে একটা অহংকার ছিল যে, আমার থেকে বেশি খেদমত এই দরবারে আরতো কেউ করে না,আমিই সবচেয়ে বড় খাদেম। এই জন্যই ইমাম ডক্টর কুদরত এ খোদা (মাঃ আঃ) হুজুর খেদমত এবং গোলামীকে আলাদা করে ফেলেছেন। খেদমত ও কাজকর্ম হলো এক জিনিস, আর গোলামী হলো আর এক জিনিস। --+-এক পীর সাহেবের দুইজন খাদেম ছিল। একজন কাজকর্ম বা খেদমত বেশি করতো। অন্য জন তার থেকে কমই গোলামী করতো। কিন্তু পীর সাহেব যে গোলামী করতো তাকে একটু বেশি ভালো বাসতেন। তাতে খেদমত করনেওয়ালার হিংসা লাগতো। সে একদিন বলেই ফেললো বাবা ওতো আমার থেকে কাজকর্ম কম করে, তারপরও আপনি আমার থেকে ওকে বেশি ভালোবাসেন কারণ কি? পীর সাহেব তার কথার কোন জবাব দিলেন না। একদিন পীর সাহেব যে বেশি কাজকর্ম করে বা খেদমত করে তাকে বললেন, আমার ঘোড়াটা দোতলায় নিয়ে এসো তো। তখন খাদেম বলে বাবা! এটা কি বলেন, ঘোড়া কি দোতলায় উঠানো যায়?এবার পীর সাহেব দ্বিতীয় জনকে বললেন, তুমি ঘোড়াটা দোতলায় নিয়ে এসো। সে হুকুম পাওয়া মাত্রই ঘোড়াশালা থেকে ঘোড়াটি এনে দোতলায় উঠানোর চেষ্টা করতে লাগলো। ঘোড়ার লাথি আর কামড় যে একবার জীবনে খাইছে, সেই জানে তার মজা কি। এখন পীর সাহেব প্রথম জনকে বলেন কিরে! কেমন বুঝলি, তুই যে যুক্তি দেখাইলি ঘোড়া কি দোতলায় উঠানো যায়? ওতো আমার হুকুম পালন করতে গিয়ে ঘোড়ার লাথি আর কামড় খাইলো। আসলে তুই হলি আমার খাদেম আর ও হলো আমার গোলাম। আসলে ভাতিজা ছিল খাদেম, সে কখনো সূূূফী সম্রাটের গোলাম হতে পারেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ