আশেকে রাসুল আলী হায়দার দেওয়ান,(ইটালিয়ান প্রবাসী) ১৩২ নাম্বার দেওয়ান বাড়ী, মানিকদী বাজার, ক্যান্টনমেন্ট থানা, ঢাকা অলৌকিক ঘটনা:-
আমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ইটালিতে সিটিজেশন হিসেবে বসবাস করি এবং আমার লাইসেন্স আছে আমি সেখানে ব্যবসা করি। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ১২ তারিখে আমি আমার গাড়ি নিয়ে ব্যবসার স্থলে রওনা করি। পথের মধ্যে পুলিজিয়া (পুলিশ) আমার গাড়ি থামানোর জন্য সিগনাল দিল। আমি সামনে গিয়ে গাড়ি থামালাম। এই সময় তিন জন পুলিজিয়া (পুলিশ) আমার সামনে এসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখলো, আইকার্ড দেখলো,তারপর সৌজন্য বা পারমিশন আছে কিনা দেখলো। সর্বশেষ আমার পাসপোর্ট চাইলো। তখন আমার পাসপোর্ট সাথে ছিল না। আমি বললাম আমার পাসপোর্ট বাসায়, দশ মিনিটের মধ্যে এনে দেবো, তারা তা মানলো না। তারা আমার গাড়ি সহ আমাকে কস্তরায় (থানায়) নিয়ে গেল।
এর পাঁচ ছয় দিন আগে স্বপ্নে দেখি দুই দিক থেকে দুটি বড় সাপ এসে আমাকে কামড় দিয়ে ধরছে। যাইহোক তারা কস্তরীতে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলো, কেন পাসপোর্ট সাথে রাখি নাই। এই ভূলের কারণে তারা আমার কার্তা সৌজন্য ক্যান্সেল করে দিয়ে একটি কাগজ লেখে দিলো আমি যেন ১৫ দিনের মধ্যে ইটালি ত্যাগ করি। তখন আমি নিরুপায় হয়ে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানকে ফোন দেই। দয়াল বাবাজানের খাদেম আশেকে রাসুল জাহাঙ্গীর ভাই ফোন রিসিভ করে দয়াল বাবাজানের কাছে দেন। আমি দয়াল বাবাজানের কদম মোবারকে সালাম জানিয়ে ঘটনা বলি এবং কান্নাকাটি করতে থাকি। তখন দয়াল বাবাজান আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আপনি চিন্তা করেন না, চেষ্টা করেন আর দুরুদে মাহ্দী পড়েন। তখন আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে বিভিন্ন উকিলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করি। তারা এক এক জন একেক রকম কথা বলে, সর্বশেষ বলে এটা পাওয়া অসম্ভব। এদিকে দয়াল বাবাজান প্রতিদিন জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মাধ্যমে খবর নিতেন। ১০/১২ দিন পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে চলে যাবো।
দয়াল বাবাজানকে পূণরায় ফোন করে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানাই। দয়াল বাবাজান বললেন, আপনি মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করেন। দয়াল বাবাজানের কথা শুনে, আমি মনে মনে চিন্তা করি, দয়াল বাবাজান নিজে ব্যবস্থা না করে মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন কারণ কি? যাইহোক পরে আমি দয়াল মেজো হুজুরকে ফোন দেই। দয়াল মেজো হুজুর ফোন রিসিভ করে জানতে চান, হায়দার ভাই কি হয়েছে? তখন আমি পুরা ঘটনাটি বলি। আমার কথা গুলি শুনে তিনি বলেন, কি করতে হবে? তখন আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। পরে তিনি বললেন বয়স হইছে, অনেক দিনতো ইটালিতে থাকলেন, দেখেন কি করবেন? তখন আমি আরও হতাশ হয়ে পূনরায় দয়াল বাবাজানকে ফোন দেই। দয়াল বাবাজান জানতে চাইলেন,মেজো হুজুর কি বলছেন? আমার মূখে দয়াল মেজো হুজুরের কথা শুনে, দয়াল বাবাজান বললেন, দেখেন এরপর কি বলেন!!! তখন থেকে ভিন্ন খেলা শুরু হলো। ভাই চেয়েছিলেন দয়াল বাবাজানের মাধ্যমে তার সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু দয়াল বাবাজান হায়দার ভাইকে দয়াল মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। ততক্ষণে দয়াল মেজো হুজুরের প্রতি হায়দার ভাইয়ের ততটা আস্থা পয়দা হয়নি,যতটা ভরসা পাইতেন দয়াল বাবাজানের প্রতি। যাইহোক যেহেতু দয়াল বাবাজান বলছেন,তাই তিনি দয়াল মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করলেন, কিন্তু দয়াল মেজো হুজুরের প্রাথমিক কথা বার্তার হাকিকত বুঝতে না পেরে হায়দার ভাই আরও হতাশ হয়ে পূনরায় দয়াল বাবাজানকে ফোন করেন,দয়াল বাবাজান তারপরও দয়াল মেজো হুজুরের সাথেই যোগাযোগ করতে বললেন। উপায়হীন হয়ে হায়দার ভাই ৫/৬ দিন পর পূণরায় দয়াল মেজো হুজুরকে ফোন দেন। মেজো হুজুর জানতে চান কি হইছে? হায়দার ভাই বলেন, ওরাতো আগের মতোই বলে। আমিতো ১ লক্ষ টাকা মানত করছি। তিনি বলেন, ভালো উকিল ধরে চেষ্টা করেন।
হায়দার ভাই বলেন, তখন আমি মানব অধিকার সংস্থার এক উকিলের কাছে গেলাম এবং আমার কাগজ পত্র দেখালাম। দেখার পর বললো তোর পাসপোর্ট কোথায়? আমি বাসা থেকে পাসপোর্ট এনে দেখানোর সাথে সাথে বললো তোর ডকুমেন্টস পাবি পুলিশে মিথ্যা লেখছে। অথচ এর আগে আমি বড় বড় উকিলের কাছে গেছি, পুলিশে নাকি লেখছে আমি চার বছর ইটালিতে থাকি না। পরে আমি এর কাছ থেকে বের হয়ে দয়াল মেজো হুজুরকে ফোন করে ঘটনাটি বলি। তখন তিনি বললেন, মানত আরও বাড়ান। আমি আরও ১ লক্ষ টাকা মানত বাড়িয়ে দুই লক্ষ টাকা মানত করি। তারপর ঐ উকিলে বললো তুই দুই দিন পর আমার কাছে আয়। আমি বিষয়টি দয়াল বাবাজানকে ফোন করে জানাই। দয়াল বাবাজান, বললেন ঠিক আছে, আপনি মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ রাখেন।
দুই দিন পর আমি আবার ঐ উকিলের কাছে যাই। উকিল বললো আলী আমাকে ১ মাস সময় দে তোর কোন টাকা পয়সা লাগবে না। তুই আগামী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার দেখা করবি।আমি ১ সপ্তাহ পর কস্তরায় (থানায়) যাই। আমার উকিল থানার বড় অফিসারের সাথে কথা বলার পর অফিসার বললো আমার পুলিশ ভূল করছে, সে কাগজ পাবে, কিন্তু আমি এখন থানা থেকে দিতে পারবো না। কারণ আমি যদি থানা থেকে কাগজ দিয়ে দেই, আর আলী যদি আমার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করে, তাহলে আমার ১৭ জন অফিসারের চাকুরী চলে যাবে। তাই সে কোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে আসুক, তখন আমি কাগজ দিয়ে দেবো। তখন আমার উকিল আমাকে বললো সংস্থার বড় উকিল দিয়ে মামলাটি রুজু করতে হবে। এরপর বিষয়টি দয়াল মেজো হুজুর এবং দয়াল বাবাজানকে জানাই।
ঐ মূহুর্তে দয়াল মেজো হুজুর ইটালিতে আসছেন। দয়াল মেজো হুজুর সব শুনে বললেন,চেষ্টা করেন পাইবেন। পুলিশ আমাকে দুই মাস অপেক্ষা করতে বললো। যদিও ১ মাস ১৮ দিনের মধ্যে আমার কাগজ তৈরী হয়ে গেছে। তারপরও যদি পুলিশে আপিল করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশে আপিল করে নাই, কাগজ পেয়ে গেলাম। মূলত ঐ তারিখে ইটালির আইন অনুযায়ী আমাকে ইটালি ছাড়তে হতো। কিন্তু দয়াল মেজো হুজুর ইটালিতে তরিকার গোলামী করানোর জন্য তাঁর রুহানি ক্ষমতা দ্বারা ঐ দেশে পূণরায় থাকার জন্য ব্যবস্থা করলেন। তিনি আগেই বলেছিলেন, একটু অপেক্ষা করেন কাগজ পাইবেন। আমিতো সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম ইটালি ছেড়ে চলে আসবো। দয়াল মেজো হুজুর যে এতবড় মহামানব এটা আমার আগে জানা ছিল না। তা ছাড়া দয়াল বাবাজান তাঁর জীবদ্দশায়ই নিজের কাজ দয়াল মেজো হুজুরকে দিয়ে করায়ে তাঁর প্রতিনিধিকে পাকাপোক্ত করে যান। আর এটাই সকল মহামানবদের বেলায় ঘটেছে এবং এটাই ধর্মের বিধান। মহান রাব্বুল আলামিন বিষয় গুলি সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন।


0 মন্তব্যসমূহ