অলৌকিক ঘটনা পর্ব - ১
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ইটালিতে সিটিজেশন হিসেবে বসবাস করি এবং আমার লাইসেন্স আছে আমি সেখানে ব্যবসা করি। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ১২ তারিখে আমি আমার গাড়ি নিয়ে ব্যবসার স্থলে রওনা করি। পথের মধ্যে পুলিজিয়া (পুলিশ) আমার গাড়ি থামানোর জন্য সিগনাল দিল। আমি সামনে গিয়ে গাড়ি থামালাম। এই সময় তিন জন পুলিজিয়া (পুলিশ) আমার সামনে এসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখলো, আইকার্ড দেখলো,তারপর সৌজন্য বা পারমিশন আছে কিনা দেখলো। সর্বশেষ আমার পাশ ফুট চাইলো। তখন আমার পাশ ফুট সাথে ছিল না। আমি বললাম আমার পাশ ফুট বাসায়, দশ মিনিটের মধ্যে এনে দেবো, তারা তা মানলো না। তারা আমার গাড়ি সহ আমাকে কস্তরায় (থানায়) নিয়ে গেল।
এর পাঁচ ছয় দিন আগে স্বপ্নে দেখি দুই দিক থেকে দুটি বড় সাপ এসে আমাকে কামড় দিয়ে ধরছে। যাইহোক তারা কস্তরীতে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলো, কেন পাশ ফুট সাথে রাখি নাই। এই ভূলের কারণে তারা আমার কার্তা সৌজন্য ক্যান্সেল করে দিয়ে একটি কাগজ লেখে দিলো আমি যেন ১৫ দিনের মধ্যে ইটালি ত্যাগ করি। তখন আমি নিরুপায় হয়ে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানকে ফোন দেই। দয়াল বাবাজানের খাদেম আশেকে রাসুল জাহাঙ্গীর ভাই ফোন রিসিভ করে দয়াল বাবাজানের কাছে দেন। আমি দয়াল বাবাজানের কদম মোবারকে সালাম জানিয়ে ঘটনা বলি এবং কান্নাকাটি করতে থাকি। তখন দয়াল বাবাজান আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আপনি চিন্তা করেন না, চেষ্টা করেন আর দুরুদে মাহ্দী পড়েন। তখন আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে বিভিন্ন উকিলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করি। তারা এক এক জন একেক রকম কথা বলে, সর্বশেষ বলে এটা পাওয়া অসম্ভব। এদিকে দয়াল বাবাজান প্রতিদিন জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মাধ্যমে খবর নিতেন। ১০/১২ দিন পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে চলে যাবো।
দয়াল বাবাজানকে পূণরায় ফোন করে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানাই। দয়াল বাবাজান বললেন, আপনি মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করেন। দয়াল বাবাজানের কথা শুনে, আমি মনে মনে চিন্তা করি, দয়াল বাবাজান নিজে ব্যবস্থা না করে মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন কারণ কি? যাইহোক পরে আমি দয়াল মেজো হুজুরকে ফোন দেই। দয়াল মেজো হুজুর ফোন রিসিভ করে জানতে চান, হায়দার ভাই কি হয়েছে? তখন আমি পুরা ঘটনাটি বলি। আমার কথা গুলি শুনে তিনি বলেন, কি করতে হবে? তখন আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। পরে তিনি বললেন বয়স হইছে, অনেক দিনতো ইটালিতে থাকলেন, দেখেন কি করবেন? তখন আমি আরও হতাশ হয়ে পূনরায় দয়াল বাবাজানকে ফোন দেই। দয়াল বাবাজান জানতে চাইলেন,মেজো হুজুর কি বলছেন? আমার মূখে দয়াল মেজো হুজুরের কথা শুনে, দয়াল বাবাজান বললেন, দেখেন এরপর কি বলেন!!! তখন থেকে ভিন্ন খেলা শুরু হলো। আর সে কাহিনী জানতে পারবেন আগামী পর্বে ।
তবে আমার পাঠক পাঠিকা ভাই ও বোনদের কাছে একটি প্রশ্ন হায়দার ভাইয়ের ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে, দয়াল বাবাজান ওফাত লাভ করলেন ২০২০ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর। এরও ১৫/২০ বছর পূর্বে দয়াল বাবাজান সম্মানিত চারজন সাহেব জাদা হুজুরকে ইমাম বলেছিলেন,যখন বিপদগামী সাইদুরের ভণ্ডামি দয়াল বাবাজান জাহেরে বাতেনে বুঝতে পেরে বলতেন, আমার দরবারে কোন পীর হবে না, যে কথা গুলি তিনি ওফাত লাভের আগের দিন পূণরায় উল্লেখ করলেন। আমার প্রশ্ন দয়াল বাবাজান হায়দার ভাইকে দয়াল মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন কারণ কি? আমি আরও শুনছি যারা সবসময় দয়াল বাবাজানের খেদমতে থাকতেন তাদের মূখে,দয়াল বাবাজান নাকি দেশ-বিদেশের আশেকে রাসূলগনের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য দয়াল মেজো হুজুরকেই দায়িত্ব দিতেন,তাহলে বাকি তিনজন সম্মানিত সাহেব জাদা হুজুর কিসের ইমাম? দয়াল বাবাজান কি তাঁদেরকে শুধু খুসি করার জন্যই ইমাম বলেছেন, তাঁদের কোন ভূমিকা নেই? তাঁদের নাকের ডোগায় বসে দিদার দয়াল মেজো হুজুরের বিরুদ্ধে একের পর এক ফেসবুকে যে সকল বিশ্রী কথা বার্তা লেখে প্রচার করে যাচ্ছে, দিদারকে এগুলি লেখে প্রচার করার জন্য সম্মানিত বাকী তিনজন সাহেব জাদা হুজুর কি দায়িত্ব দিছেন? নাকি তাঁরা দিদার, ইকবাল ফারুকীদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছেন?

.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ