আবেগী নিউজ

আবেগী নিউজ

সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম

 সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম

বুধবার রাত ১০:৪৩ এ ডিউটি তে থাকা অবস্থায় ফোন টা হাতে নেই, একটা মেসেজ আসে...শুক্রবার আমার বিয়ে। যদিও সে আমার প্রেমিকা না কিন্তু আমি অনেক টা স্থির হয়ে গেলাম ।তার সাথে আমার ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা খেলার সময় আমার করা নেইমার কে নিয়ে একটা স্যাড পোস্টে সে হাহা রিয়াক্ট দেয় এবং ট্রল কমেন্ট করে, তারপর তুমুল ঝগড়া হয়। এমনকি একটা সময় আমি তাকে সহ্য না করতে পেরে ব্লোক মেরে দেই,, যদিও তাকে তখন আমি তেমন ভালো চিনতাম না,,,আমার বেস্ট ফ্রেন্ড এর পরিচিত ছিল এটাই যানতাম। কয়েকবার সামনে থেকে দেখেছি ঠিকই কখনো কথা বলি নি। পরবর্তী তে ২০২২ সালে আমার বন্ধু একটা বাৰ্থডে ইনভাইটেশন পায়, যে তারিখে অনুষ্ঠান সে দিন আমরা দুইজন একসাথে বাইরে ছিলাম। আমার বন্ধু আমাকে অনেক জোড় করেই নিয়ে যায়। আমি তাদের বাসায় যাওয়ার পর কোনো ভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়, আমরা চলে আসি, রাতে আমার বন্ধু গ্রুপ কল দে তখন আমি গ্রুপে ঢোকার সময় দেখি পারমিশন চায় তখন বুঝতে পারিনি এটা কেনো হলো।

কথা শেষ এ আমাকে সে এড দিতে বল্লো, আমি তার কনভারসেশন ও যেতেই দেখি তাকে ব্লোক দেয়া,আমি তো পুরা অবাক, কনভারসেশন দেখে আমি সক, কি করবো, কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ব্লোক টা কেটে এড দেই তারপর তার সাথে আমার অনেক কথা, যদিও প্রথম দিন শুধু ব্লোক দেয়ার ব্যাপার টা নিয়েই অনেক কথা হয়েছে। পরবর্তীতে অনেক কথা। এরপর শুরু হয় আমাদের ঘোরাঘুরি। তাকে নিয়ে একটু বলি সে আমার থেকে ৩ বছরের বড়, BSC না করায় সে একটা ল্যাবে চাকুরী করে। তার ডিউটি শেষ হয় রাত ১০ টায়। ঠিক তখন আমার বাইক এবং আমার বন্ধুর বাইক নিয়ে ৪/৫ জন বের হই। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমার বাইকে রক্তের কেউ ব্যাতিত, সেই প্রথম মেয়ে হিসেবে আমার বাইকে ওঠে।এরপর ১.৫ মাস প্রায় প্রতিদিন তাকে নিয়ে আমরা বের হতাম, স্মৃতি স্বরূপ তাকে নিয়ে আমি একদিন ঝুম বৃষ্টিতে বাইকে করে অনেক সময় ভিজি,প্রায় সময়ই চা খেতাম আমরা ও যেহেতু একজন ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট আমাদের বলতো টি প্যাক টা ছিঁড়ে চায়ের ভেতর চা পাতি দিয়ে খাও, কাগজ টা ক্ষতিকর,আমরা সেটা করতাম মাঝে মাঝেই। ও মাঝে মাঝে পাগলামি করে চায়ের ভেতর কোক দিয়ে তারপর খেতো।১১ টা সারে ১১ টার পর তাকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসতাম।

এই ১.৫ মাসের মধ্যে আমার সিদ্ধান্ত হয় আমি সৌদি যাবো, এবং সেটা সবকিছু এতো তাড়াতাড়ি হয় যে মনে হয় এক পলকে ১ মাস শেষ হয়ে গেলো.... এই ১.৫ মাস ওর সাথে আমার কি সম্পর্ক ছিলো সেটা জানতাম ই না। আমি বিদেশে যাবো এটা ওকে প্রথমে বলিনি। আমি চলে আসার ১০/১৫ দিন আগে বল্লাম। ও মন খারাপ করলো অনেক। অনেক বার বল্লো না গেলে কি হয় না...? এভাবেও বল্লো যে তেমার যাওয়া লাগবে না, থেকে যাও। তখন আমার ফ্লাইট এর ডেট ও পরে গেছে। আসলে আমি ওকে বুঝতেই পারি নি। পারবো কি করে সবসময় শুধু এটাই ভেবেছি যে ও তো আমার থেকে ৩ বছরের বড়। যখন কালকে মেসেজ আসলো আমার মনে হলো আমার নিজের কিছু একটা হারিয়ে ফেল্লাম। ওকে ভালো লাগার কারণ হিসেবে, ওর সাধারণ কথা বার্তা, চলাফেরা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমি ওর থেকে ছোটো কিন্তু যথেষ্ট সন্মান করতো, মাঝে মাঝে অন্য কোনো মেয়ের সাথে ছবি স্টোরি দিলে এমন ও হয়েছে কয়েকদিন যে রেগে গিয়ে এভাবে বলতো, তুই আমাকে ফোন দিবি না, তোর সাথে কোনো কথা নাই। তুই অন্য মাইয়া নিয়া থাক। যদিও আমাকে কোনো মেয়ে তুই করে বল্লে আমি সহ্য করে পারি মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। অথচ ও বল্লে আমার খারাপ লাগদো না। ও বল্লেও ও আবার কয়েক মিনিট পরেই ভালোকরে কথা বলতো। দেশ ছেড়ে আসার আগের ১.৫ মাস অনেক ভালো সময় কেটেছে ওর সাথে।

এমন ও হয়েছে যে রাত ১১ টার সময় অন্ধকার রাস্তা, ঠান্ডা বাতাস, আমি বাইক রাইড করতেছি ও আমার মাথার চুল হাল্কা করে টেনে দিচ্ছে। এই তো কয়েক মাস আগেও আমাকে এমন অফার করলো যে, তুমি যদি এখন আসো আমি টিকেট কেটে দিবো। কখনো একটি কথা বলা হয়নি, আর হয়তো হবেও না। তবে শেষ দিন ওর হাত থেকে আমাকে ওর হাতের রিং টা দিয়ে দেয়। এবং বলে আমার খুব পছন্দের একটা রিং, যদিও আমি আমার পছন্দের কিছু কাউকে দেই না তোমাকে দিলাম, যত্ন করে রেখো। এখন আমি আসলে বুঝতে পারছি যে বয়স কোনো ব্যাপার না। কারো সাথে কারো মিলে গেলে সন্মান মর্যাদার সাথে সারা জীবন পার করা যায়।

 ভালো থাকবেন সিনিয়র ম্যাডাম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ