-কিছু না তো!
-আমার কাছেও লুকিয়ে যাবি? —লুকোতে তো চাইনি, অথচ যার বুকে আছড়ে পরে সবটা বলার কথা ছিল, আজ তার বুকেই মাথা দিয়ে চোখের জল লুকিয়ে তাকেই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
–কষ্ট পাচ্ছিস কেনো মৌ?
-আমাদের পরিণতি টা এমন কেনো বাবাই দা? -ঠিক যেমন মেহুল আর বাবাই দার ছিলো তেমন! -সবসময় আজেবাজে বলো কেনো?
—হতেও তো পারে!–আমি তোমাকেই তো চাই গো....-পরিস্থিতি চায় না, মৌ বেকার ছেলের হাতে কোনো মেয়ের বাবা কোন বিবেচনায় তার মেয়েকে তুলে দেবে বল তো! তোর বাবার চিন্তাগুলো অমূলক তো না,তাই না!
–বাপির চিন্তা অমূলক না, কিন্তু তুমি আজ চাকরি পাচ্ছো না। কাল তো পেতে পারো বাবাই দা...ধরো আমার বিয়ের দিন আমার সিঁদুর পড়ার মুহূর্তে তোমার ফোনে কল এলো...তোমার চাকরি টা হয়ে গেছে। ক্ষমা করতে পারবে নিজেকে?
-ধুর বোকা! চাকরি কী ছেলের হাতের মোয়া নাকি? যে বললাম আর তোর বিয়ের দিন পেয়ে গেলাম! নাহ রে মৌ এই বাজারে চাকরি এত সহজ না।
মৌ এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে বাবাই এর দিকে। মৌপর্ণা আর শন্তব্রত ভালোবাসে একে অপরকে। তবে আর একদিন বাদেই মৌপর্নার বিয়ে অভ্র সেনগুপ্তের সঙ্গে। পেশায় তিনি একজন প্রফেসর। মেয়ের বাবা হিসেবে মৌপর্নার বাবা শান্তব্রত মানে বাবাই এর মত বেকার ছেলের থেকে অভ্রের মত প্রফেসর জামাই কে বেশি প্রেফার করেন। শান্তব্রতর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে মানুষকে কী বলবেন! জামাই কী করের উত্তরে কী বলবেন! জামাই বেকার?
–এই মৌ এর সাজ আর কতটা বাকি রে? -এই তো নাকের নত টা পড়াচ্ছি, আর একটু ওড়না টা ঠিক করে দিলেই হয়ে যাবে। -আচ্ছা তাড়াতাড়ি কর! বর এসে ছাদনাতলায় বসে আছে...
—হ্যা গো করছি।ও মৌ দি কাঁদছো কেনো গো? মেকাপ টা ঘেঁটে যাবে। জানি কষ্ট হচ্ছে কালকে এইসব ছেড়ে যেতে হবে। তাও আজকের দিনটা তো সুন্দর দেখাতে হবে নাকি!-হ্যা রে!
-“বাবা এবার সিঁদুর টা পরিয়ে দাও কনের সিথিতে..."একবাক্যে অভ্র সিঁদুর পরিয়ে দেয় মৌপর্ণা কে। আজ থেকে মৌপর্ণা অভ্রের পরিণীতা। বুকের ভেতর এক পুরুষকে দাফন করে আরেক পুরুষকে ভালোবাসার চেষ্টায় কেটে যাবে মৌ এর জীবন। হয়তো অভ্যেসবোধ থেকে ভালোবাসা টা আসবেও! কিন্তু ওই যে! মৌ এর বাবাই দার প্রতি থাকা মায়া চিরকাল ওকে বলে যাবে একটা গানের মতই...“তুই ফেলে এসেছিস কারে মোর মন রে আমার! তাই জনম গেলো শান্তি পেলি না রে... মোর মন রে আমার!”
পরেরদিন দুপুরের দিকে মৌপর্ণাকে যেই গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল অভ্রর বাড়ি ঠিক তার পাশেই এসে দাড়ায় এক লাশবাহি গাড়ি। মৌ জানতে পারে না পাশের গাড়িতে তার বাবাই দা আছে। তার বাবাই দা তাকে ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে অনেকটা দূরে ... মৌ এসব কিছু জানতেও পারে না। শুধু একটা পরিচিত পারফিউমের গন্ধ বারবার নাকে এসে ঠেকে, মৌ ঘাড় ঘুরিয়ে সিগনালের আঁকেবাকে খুঁজতে থাকে তার বাবাই দা কে। পায় না তার দেখা...গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগে আগে, সিগনালে গান বেজে ওঠে...
“সাদাকালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে তোমার আমার লালনীল সংসার... এটা কী 2441139
আবার এক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বেকারত্বের জ্বালায় নিজের করতে না পেরে মৃত্যু কে আপন করলো। কোনো প্রেমিকা আবারও তার প্রেমিক পুরুষকে বুকের মাঝে দাফন করে অন্য কাউকে ভালোবাসার চেষ্টায় পাড়ি দিলো সারাজীবনের জন্য এক অপরিচিত গন্তব্যে। সমাজের রোজকার ঘটনা... কত মৌপর্ণা আর শান্তব্রতর খবর পাই আমরা?


0 মন্তব্যসমূহ